লাকসাম মিডিয়া গ্যালারী

#htmlcaption1 লাকসাম মাল্টি-মিডিয়া হাউস লাকসাম মাল্টি-মিডিয়া হাউস লাকসাম মাল্টি-মিডিয়া হাউস lakshamlive Stay Connected lakshamlive Stay Connected lakshamlive Stay Connected lakshamlive Stay Connected lakshamlive Stay Connected lakshamlive Stay Connected lakshamlive Stay Connected lakshamlive Stay Connected lakshamlive Stay Connected lakshamlive Stay Connected lakshamlive Stay Connected lakshamlive Stay Connected lakshamlive Stay Connected lakshamlive Stay Connected lakshamlive Stay Connected lakshamlive Stay Connected lakshamlive Stay Connected lakshamlive Stay Connected

Tuesday, 23 May 2017

রমজানের বাইরেও রোজার বিধান

রমজানের বাইরেও রোজার বিধান
রমজানুল মোবারকের পুরো মাস রোজা রাখা আমাদের ওপর ফরজ। তবে এর বাইরেও ইসলামে আরো কিছু রোজার বিধান রয়েছে। হজরত রাসুলুল্লাহ (স) অনেক ধরনের রোজা রাখতেন। কখনো কখনো তিনি উপর্যুপরি কয়েক দিন রোজা রাখতেন। রোজার বিষয়ে তাঁর নিয়ম ছিল বিস্ময়কর। তিনি সাময়িক উপযোগিতার ভিত্তিতে বিশেষ বিশেষ দিনের রোজা রাখতেন। আবার প্রায়ই রোজা রাখতেন না। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে শাকিক (রা) বলেন, আমি হজরত আয়েশা (রা)-কে রাসুলে করিম হজরত মুহাম্মদ (স)-এর রোজা সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, তিনি কখনো উপর্যুপরি রোজা রাখতেন। আমরা মনে করতাম, তিনি এ মাসে আর রোজা ছাড়বেন না। আবার কখনো উপর্যুপরি রোজা পরিহার করতেন। তখন আমাদের ধারণা হতো, এ মাসে তিনি আর রোজা রাখবেন না। মদিনায় আসার পর থেকে রমজান মাস ছাড়া তিনি অন্য কোনো পূর্ণ মাসের রোজা রাখেননি। (আবু দাউদ ও শামায়েলে তিরমিজি)
প্রতি মাসে তিনটি রোজা : হজরত মুয়াজ (রা) বলেন, আমি হজরত আশেয়া (রা)-কে জিজ্ঞেস করলাম, রাসুলুল্লাহ (স) কি প্রত্যেক মাসে তিনটি রোজা রাখতেন? জবাবে বললেন, হ্যাঁ, রাখতেন। আবার জিজ্ঞেস করলাম, মাসের কোন কোন দিন রাখতেন? বললেন, এর কোনো ধরাবাধা নিয়ম ছিল না। যখন সুযোগ হতো, রাখতেন। (শামায়েলে তিরমিজি)
সোম ও বৃহস্পতিবারের রোজা : হজরত আবু হোরায়রা (রা) সূত্রে বর্ণিত। রাসুলে করিম মুহাম্মদ (স) বলেন, ‘সোম ও বৃহস্পতিবার আল্লাহতায়ালার দরবারে মানুষের আমল পেশ করা হয়। আমার মন চায়, আমার আমল রোজা অবস্থায় তাঁর দরবারে পেশ হোক।’ (শামায়েলে তিরমিজি) এছাড়া হজরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা) বলেছেন, ‘রাসুলুল্লাহ (স) সোম ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখতেন।’ (তিরমিজি ও নাসায়ি)
উপর্যুপরি রোজা রাখা নিষেধ : হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা) বলেন, হজরত রাসুলে করিম (স) আমার অধিক পরিমাণ নামাজ-রোজা সম্পর্কে জানতে পেরে আমাকে বললেন, এরূপ করো না। বরং কখনো রোজা রেখো, কখনো ছেড়ে দিও। এভাবে রাতে নামাজ পড়ো এবং ঘুমাও। তোমার দেহেরও তোমার ওপর হক আছে। তোমার চোখেরও তোমার ওপর হক আছে। তোমার স্ত্রীরও তোমার ওপর হক আছে। এমনিভাবে সন্তান-সন্ততির হক আছে এবং সাক্ষাত্প্রার্থীদেরও হক আছে। (শামায়েলে তিরমিজি)
শাওয়ালের ছয় রোজা : হজরত আবু আইয়ুব আনসারি (রা) সূত্রে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ (স) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রমজান মাসের রোজা রাখে, এরপর শাওয়াল মাসেও ছয়টি নফল রোজা রাখে, সে যেন সারা বছরই রোজা রাখল।’ (মুসলিম শরিফ)
বিশেষ রোজা : হজরত হাফসাহ (রা) বলেন, চারটি বিষয় রাসুলুল্লাহ (স) কখনো ছাড়তেন না। ০১. আশুরার রোজা, ০২. পহেলা জিলহজ থেকে ৯ জিলহজ পর্যন্ত রোজা, ০৩. প্রত্যেক মাসে তিন রোজা এবং ০৪. ফজরের পূর্বেকার দুই রাকাত নামাজ। (নাসায়ি শরিফ)
আইয়ামে বিজের রোজা : হজরত কাতাদাহ ইবনে মিলহান (রা) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (স) আমাদের আইয়ামে বিজ অর্থাত্ প্রত্যেক চাঁদের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে রোজা রাখার নির্দেশ দিতেন। বলতেন, মাসের এ তিন দিন রোজা রাখা সওয়াবের দিক দিয়ে সদাসর্বদা রোজা রাখার সমান। (আবু দাউদ ও নাসায়ি শরিফ)
জিলহজের ১০ রোজা : হজরত আবু হোরায়রা (রা) সূত্রে বর্ণিত। রাসুলে করিম (স) বলেন, সব দিনের মধ্যে কোনো দিনই বান্দার ইবাদত করা আল্লাহতায়ালার কাছে ততটুকু প্রিয় নয়, যতটুকু জিলহজের প্রথম ১০ দিন ইবাদত করা প্রিয়। এই দশকের প্রত্যেক দিনের রোজা সারা বছরের রোজার সমান। এর প্রত্যেক রাতের নফল শবেকদরের নফলের সমান। (তিরমিজি শরিফ)
শাবানের ১৫ তারিখের রোজা : হজরত আলী (রা) সূত্রে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ (স) বলেন, শাবানের ১৫ তারিখের রাতে আল্লাহতায়ালার দরবারে নফল নামাজ পড়ো। এদিন রোজা রাখো। কেননা, এ রাতে সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহ তায়ালার বিশেষ নুর ও রহমত প্রথম আকাশে অবতীর্ণ হয়। আল্লাহতায়ালা বলেন, মাগফিরাত ও বখশিশ চাওয়ার মতো কেউ আছে কি? আমি তার মাগফিরাতের ফায়সালা করব। রুজি চাওয়ার মতো কেউ আছে কি? আমি তার রুজির ফায়সালা করব। নিরাপত্তার আবেদন করে এমন কোনো বিপদগ্রস্ত আছে কি? আমি তাকে নিরাপত্তা দান করব। এমনিভাবে বিভিন্ন বিষয়ে অভাবগ্রস্তদের আল্লাহতায়ালা ডাকেন, যাতে তারা নিজেদের প্রয়োজন পেশ করে এবং আল্লাহতায়ালা তা দান করেন। সূর্যাস্ত থেকে সুবহে সাদেক পর্যন্ত আল্লাহতায়ালার রহমত এমনিভাবে মানুষকে এ রাতে ডাকতে থাকে। (ইবনে মাজাহ)
আশুরার রোজা : হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) বলেন, রাসুলুল্লাহ (স) আশুরার রোজা রাখাকে নিজের অভ্যাসে পরিণত করে নিয়েছিলেন। মুসলমানদেরও এ রোজা রাখার আদেশ দিয়েছেন। কোনো কোনো সাহাবি আরজ করলেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ, এ দিনটি ইহুদি ও খ্রিস্টানরা পবিত্র দিন হিসেবে উদযাপন করে। কাজেই বিশেষভাবে এ দিনটিতে রোজা রাখলে তাদের সঙ্গে সামঞ্জস্য ও মিল হয়ে যায় নাকি? তিনি বলেন, ইনশাআল্লাহ, আমরা আগামী বছর ৯ তারিখে রোজা রাখব। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) বলেন, এরপর নতুন বছর মহররমের চাঁদ আসার আগেই রাসুলুল্লাহ (স)-এর ওফাত হয়ে যায়। (মুসলিম শরিফ)



0 comments:

Post a Comment